মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় প্রেমিকার বিয়ের দিনেই গৌরাঙ্গ চন্দ্র রায় (২০) নামের এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) সকালে উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মটুকপুর নয়নপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত গৌরাঙ্গ চন্দ্র রায় ওই এলাকার মৃত রাজেন্দ্র চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে শান্ত স্বভাবের যুবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বুধবার সকাল ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় গৌরাঙ্গ নিজ বাড়ির টয়লেটের কাঠের তীরের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকালে পরিবারের সদস্যরা টয়লেটে গেলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন।
এলাকাবাসী জানায়, গৌরাঙ্গের সঙ্গে তার চাচাতো বোনের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পারিবারিক নানা জটিলতার কারণে তাদের সম্পর্কের পরিণতি হয়নি। বুধবার ওই তরুণীর বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। প্রেমিকার বিয়ের খবর জানার পর থেকেই গৌরাঙ্গ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই এ ঘটনাকে প্রেমঘটিত মানসিক চাপের করুণ পরিণতি হিসেবে দেখছেন। তবে আত্মহত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ডোমার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শৈলেন চন্দ্র দেব সাংবাদিকদের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেম, পারিবারিক চাপ, সামাজিক সংকট ও মানসিক হতাশা থেকে অনেক তরুণ চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। তাই পরিবারের সদস্যদের উচিত তরুণদের মানসিক অবস্থার প্রতি আরও সংবেদনশীল হওয়া এবং প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা।