মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ডহর পাঁচুরিয়া গ্রামে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে “মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প”-এর আওতায় বাস্তবায়িত প্রদর্শনীর কৃষক মাঠ দিবস ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে ডহর পাঁচুরিয়া মাঠে বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রতন কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে এবং বহরপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন সরদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা মোঃ রইচ উদ্দিন আহম্মদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম রসুল, জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা মোঃ মাছিদুর রহমান এবং স্থানীয় কৃষক প্রতিনিধি মোঃ মনিরুল ইসলাম দেওয়ান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, “কৃষিকে লাভজনক ও আধুনিক করতে সরকার বিভিন্ন উন্নত জাত ও প্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমেই কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে মসলা জাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রতন কুমার ঘোষ বলেন, “উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা হচ্ছে। কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে বালিয়াকান্দিকে আধুনিক কৃষি অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
বক্তাগণ বলেন, রসুন আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মসলা, যা শুধু রান্নার স্বাদ ও গন্ধ বাড়ায় না, বরং এর রয়েছে নানা ঔষধি গুণাগুণও।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে রসুনের উন্নত জাত, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং সঠিক পরিচর্যার প্রযুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে। উন্নত জাতের রসুন চাষের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, উৎপাদন খরচ কমবে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হবেন।
বর্তমান সময়ে কৃষিকে লাভজনক করতে হলে আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বীজ নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ, রোগ-বালাই দমন এবং সঠিক সময়ে ফসল সংগ্রহ— প্রতিটি ধাপে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
আমরা আশা করি, এই প্রদর্শনী দেখে আমাদের কৃষক ভাই-বোনেরা রসুন চাষে আরও উৎসাহিত হবেন এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করে নিজেদের উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হবেন। কৃষির উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন, কৃষকের সমৃদ্ধি মানেই দেশের সমৃদ্ধি।
মাঠ দিবসে স্থানীয় কৃষকরা উন্নত জাতের মসলা চাষ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। এ সময় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।