আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে নিহত সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানের যাত্রীদের মধ্যে ১৩ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের এক যৌথ তদন্তে উঠে এসেছে, নিহতদের বেশিরভাগই লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন।
‘লাতিন আমেরিকান সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম’ (ক্লিপ)-এর নেতৃত্বে ২০ জন সাংবাদিক পাঁচ মাস ধরে এ তদন্ত পরিচালনা করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছেন। তবে হামলার আগে নিহতদের পরিচয় বা তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ ছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তে দেখা যায়, অনেকেই জীবিকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় যুক্ত হয়েছিলেন। কেউ ছিলেন জেলে, কেউবা অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিহতদের পরিবারের দাবি, অনেকেই নির্দোষ ছিলেন।
ক্লিপের পরিচালক মারিয়া তেরেসা রন্দেরোস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে বড় মাদক চক্রের মূল ব্যক্তিদের বদলে দরিদ্র তরুণরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তার মতে, দারিদ্র্যের কারণে জীবনযুদ্ধে বাধ্য হওয়া মানুষদেরই এসব অভিযানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই সামরিক অভিযান মাদক প্রবাহ কমাতে তেমন কার্যকর হয়নি। বরং স্থানীয়ভাবে আতঙ্ক ও সামাজিক সংকট বেড়েছে। অনেক এলাকায় মানুষ ভয় ও অনিশ্চয়তার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ কমান্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসব অভিযান আইনসম্মত ও নির্ভুল ছিল এবং শুধুমাত্র মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে।
তবে মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছে, এসব অভিযানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা রয়েছে এবং ঘটনাগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রশ্নও সামনে আনছে।