১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ইরানে গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব, দাবি পশ্চিমা ও ইরানি সূত্রের

নিজস্ব প্রতিনিধি:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের সময় ইরানের ভেতরে একাধিক গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব—এমন দাবি করেছেন দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা ও দুই ইরানি কর্মকর্তা। তাদের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ দিকে এসব হামলা পরিচালিত হয় এবং তা ছিল সৌদি ভূখণ্ডে চালানো হামলার পালটা জবাব।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় সৌদি আরব আগের তুলনায় আরও কঠোর ও সক্রিয় অবস্থান নিয়েছে।

পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি বিমানবাহিনী সরাসরি এসব হামলা চালালেও লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হামলার বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল সৌদি আরব এবার সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে জড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী বিমান হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, এরপর ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এসব হামলায় সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বিমানবন্দর, বেসামরিক স্থাপনা ও তেল অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের হামলার জবাবে পালটা প্রতিক্রিয়া শুরু করেছে।

তবে সৌদি আরব ও আমিরাতের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমিরাত তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নিলেও সৌদি আরব প্রকাশ্যে উত্তেজনা কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। রিয়াদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগও বজায় রাখা হয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব সবসময় সংযম, উত্তেজনা প্রশমন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।

পশ্চিমা ও ইরানি সূত্রের দাবি, হামলার পর সৌদি আরব বিষয়টি ইরানকে জানায় এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ে। একই সঙ্গে রিয়াদ আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়। এরপর উভয় পক্ষ উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছায় বলে জানা গেছে।

২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমেছিল। ইয়েমেন ইস্যুতেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

যুদ্ধ চলাকালে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় সৌদি আরব তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের তুলনায় তারা তুলনামূলক কম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সৌদি আরবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল এক নিবন্ধে লিখেছেন, দেশের নিরাপত্তা ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সৌদি নেতৃত্ব ধৈর্যের পথ বেছে নিয়েছে।

অন্যদিকে মার্চে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে সৌদি আরব সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে। এরপরই সৌদি আরব ইরানের কয়েকজন কূটনীতিককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।

পশ্চিমা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ দিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পালটা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারির পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমতে শুরু করে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top