মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের মূলহোতা শাহিন (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে ৩২টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ মে) রাতে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া শাহিন জলঢাকা উপজেলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্র নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। তার নেতৃত্বে চক্রটি নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে গোপন আস্তানায় সংরক্ষণ ও পরে বিক্রি করত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
জলঢাকা থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নীলফামারীসহ আশপাশের এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ বিশেষ নজরদারি শুরু করে। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকার সন্দেহভাজন অবস্থানে অভিযান চালিয়ে শাহিনকে আটক করা হয়।

পরে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শাহিন চোর চক্রের কার্যক্রম, সদস্যদের অবস্থান এবং চুরি করা মোটরসাইকেল লুকিয়ে রাখার বিভিন্ন স্থানের তথ্য দেয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রাতভর জলঢাকা থানা পুলিশের একাধিক টিম নীলফামারীসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার কয়েকটি গোপন আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের মোট ৩২টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির নম্বরপ্লেট পরিবর্তন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া কিছু মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর মুছে ফেলারও চেষ্টা করা হয়েছিল।
পুলিশ আরও জানায়, চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল চুরি, অবৈধ বিক্রি এবং জেলার বাইরে পাচারের সঙ্গে জড়িত।
এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, “শাহিনকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্তের কাজ চলছে। চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জলঢাকা থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং গ্রেপ্তার শাহিনকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ড আবেদনসহ জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।