২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করল ইরান, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে নতুন শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ এই জলপথে একটি বিশেষ ‘নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও নৌযানকে এখন থেকে ইরানি কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ও সমন্বয়ের আওতায় আসতে হবে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নতুন সামুদ্রিক অঞ্চলের সীমানাও নির্ধারণ করে দিয়েছে। ঘোষণায় বলা হয়েছে, পূর্ব প্রান্তে ইরানের কুহ-ই মুবারক এলাকা থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলের দক্ষিণাংশ পর্যন্ত এবং পশ্চিম প্রান্তে কেশম দ্বীপের শেষ সীমা থেকে ওমান উপকূল হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল-কুওয়াইন পর্যন্ত এ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল বিস্তৃত থাকবে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সীমার ভেতর দিয়ে যেকোনো ধরনের নৌযান চলাচল করতে হলে তা পূর্বানুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনে স্বীকৃত মুক্ত নৌ চলাচলের নীতির সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সংঘাত তৈরি হতে পারে। ফলে এটি ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ও সামুদ্রিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো এ বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top