আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরকে নিয়ে গঠনের আলোচনা চলা আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোটে ভবিষ্যতে ইসরাইলও যোগ দিতে পারে। তবে এর জন্য ১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
সম্প্রতি জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ফিদানের মতে, সাম্প্রতিক ইতিহাসের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
তিনি বলেন, অঞ্চলের দেশগুলোকে একে অপরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তবেই দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রস্তাবিত এই জোটে পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ফিদান আরও জানান, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ভবিষ্যতে ইরানকেও এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।
ইসরাইল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নের সমাধান হলে এবং ১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে আঞ্চলিক দেশগুলো ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখতে পারবে। তখন ইসরাইলের জন্যও এই জোটে যোগদানের পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
এদিকে আগামী জুলাইয়ে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো সম্মেলন। ফিদান জানান, সদস্য দেশগুলোর সম্মতি পেলে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো ন্যাটোর ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদার দেশগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে তুরস্ক। অতিথিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফিদান। তিনি জানান, গত এক মাসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান একাধিকবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কোনো আলোচনাতেই ট্রাম্প সম্মেলনে অনুপস্থিত থাকার ইঙ্গিত দেননি।
ফিদান বলেন, “আমাদের সব প্রস্তুতি এমনভাবেই নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো যায়।”