মোঃ নুর আলম পাপ্পু, খোকসা কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে খোকসা উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৪টায় খোকসা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের ধানের শীর্ষ এর এমপি প্রার্থী কুষ্টিয়া জেলার সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আমজাদ আলী । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মো. আনিসুজ্জামান স্বপন, জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম, বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ, গোপগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শফি আলম, খোকসা পৌর ছাত্রদলের সাবেক ছাত্রনেতা মো. রবিন রায়হান জসিম, ছাত্রনেতা মো. জুবায়ের রহমান জ্যাকি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোজাফফর জামান মিন্টুসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জানিপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মো. শামীম কাজী।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী বলেন, যারা দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি ও আদর্শের কথা বলে বুকে ধানের শীষ ধারণ করেছেন, অথচ রাজনৈতিক স্বার্থে হাতে জামায়াতের পোস্টার নিয়ে মাঠে নেমেছেন, তাদের রাজনৈতিক জবাব ও বিচার জনগণ কুষ্টিয়া-৪ আসনেই দেবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সংকটময় সময়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করেছিলেন। তাঁর আদর্শ ছিল গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনীতি, আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি এবং দেশপ্রেম। সেই আদর্শকে ধারণ করেই বিএনপিকে জনগণের প্রত্যাশার দল হিসেবে এগিয়ে যেতে হবে।
বক্তারা বলেন, কুষ্টিয়া জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও নানা ষড়যন্ত্রের মধ্যেও তিনি মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে দলকে শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। বিশেষ করে সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দলের অভ্যন্তরে বিভক্তি, মতপার্থক্য এবং কিছু নেতার বিতর্কিত অবস্থানের বিষয়টি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন, আদর্শ ও ত্যাগের রাজনীতির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এসব প্রশ্নের জবাব জনগণই দেবে।
অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান এবং জাতীয়তাবাদী দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন এর প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
শেষে দেশ, জাতি, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর দীর্ঘায়ু কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।