৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

নীলফামারীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নীলফামারীতে সচেতনতামূলক র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সকালে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়।

“নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করি, ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. মেহেদী মোর্শেদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক, নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল্লাহেল মাফি, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ সরকার, জেলা মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (রেডিওলজি)-এর সভাপতি নুরুজ্জামান সরকারসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, নার্স ও বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাসপাতাল চত্বর ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র‌্যালি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন বহন করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এর জন্য সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা ও বিভিন্ন পাত্রে যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল্লাহেল মাফি বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। নিজেদের বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে আমরা এডিস মশার বিস্তার রোধ করতে পারি। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে একটি জাতীয় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সময়মতো সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনগণকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে জেলার বিভিন্ন স্থানে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top