১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ঈশ্বরদীতে মাছ চাষে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ক মৎস্য চাষি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

রিফাজ বিশ্বাস লালন, ঈশ্বরদী প্রতিনিধি:

পাবনার ঈশ্বরদীতে মাছ চাষে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ক মৎস্য চাষি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার (১৪ জুন) সকালে ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ব্র্যাক অফিসে মৎস্য চাষি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। অর্ধশতাধিক মৎস্য চাষি প্রশিক্ষণে অংশ নেন। মৎস্য চাষী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মী শিরিন।

ব্র্যাক হ্যাচারী ম্যানেজার নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, ব্র্যাক অফিসার সেলস আব্দুল মালেক দেওয়ান, ব্র্যাক ক্যাশিয়ার কর্মকর্তা আফতাবুল আলম ও ব্র্যাক উৎপাদন কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান।

প্রধান অতিথি বলেন, সুসম মাছ চাষে পুকুরে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। অসাধু মৎস্য চাষিরা অধিক মুনাফার জন্য তাদের পুকুরে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করে থাকেন। মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহৃত মাছ নিয়মিত খেলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পুকুরে ভাত দিলে মাছ অতিদ্রুত বৃদ্ধি হয়। কিন্তু ক্রেতা ভাত খাওয়া মাছ হাট-বাজার থেকে কিনে প্রচারিত হয়। বাজার থেকে এক কেজি মাছ কিনে এনে রান্না করলে হাফ কেজি হয়ে যায়। কারণ ভাত খাওয়া মাছ থেকে পানি বের হওয়ার কারণে ওজন কমে যায়। ভাত খাওয়া মাছ রান্নার সময় নেতিয়ে ছোট হয়ে যায়।

তিনি বলেন, অনেকে পুকুর সংস্কারের কথা বলে ধানের জমি কেটে পুকুর তৈরি করেন। যা আইন বহির্ভূত বলে আমি মনে করি। আপনাদের পুকুর সংস্কার করতে হলে উপজেলা মৎস্য অফিসে লিখিত ভাবে আবেদন করতে হবে। পুকুর সংস্কারের সময় আবেদনের রিসিভ কপি চাষিদের কাছে রাখতে হবে। কাটা পাল্লা ব্যবহার করার কারণে মৎস্য চাষিরা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে। ঈশ্বরদীর মৎস্য আড়ৎ গুলোতে ডিজিটাল পাল্লা ব্যবহারের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, পুকুরে মাছ ছাড়ার আগে চুন দিয়ে পুকুর শোধন করতে হবে। পুকুরে পুষ্টিকর মানসম্মত ফিড ব্যবহার করতে হবে। খাদ্যের প্রোটিনের মান যাচাই করতে হবে। বায়োসিকিউরিটি মোতাবেক পুকুরে বাইরের দূষিত পানি প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। মাছ ছাড়ার আগে লবণ পানিতে চুবিয়ে পুকুরে মাছ ছাড়া উত্তম। অসুস্থ মাছ দ্রুত আলাদা করুন এবং মাটিতে পুঁতে ফেলুন। খামারে প্রবেশের আগে সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করা। নিয়মিত পানি পরীক্ষা করুন। পুকুরে নির্ধারিত সময়ে মাছকে খাবার দিন। মাছের ওজন অনুযায়ী খাদ্যের পরিমাণ ঠিক করুন। প্রতি ১৫-২০ দিনে একবার শ্যাম্পেলিং করে মাছের ওজন জেনে নিন। অতিরিক্ত খাবার দিলে পানির পরিবেশ দূষিত হয় ও মাছ রোগাক্রান্ত হয়।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top