রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে প্রশাসনের একটি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে।
এক পক্ষ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) অপসারণ দাবি করে আন্দোলনের ডাক দিলে, অপর পক্ষ এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা কর্মসূচি পালন করেছে। দুই গ্রুপের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন রাতে রংপুর শহর থেকে নাশকতার একটি মামলায় কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও আদিতমারী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এজাহারভুক্ত এই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। এরপর থেকেই প্রশাসনের সঙ্গে ওই পক্ষের এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, গত বুধবার একই মামলায় রমজান আলী নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়।
এদিকে জাহাঙ্গীর আলমপন্থী নেতাদের দাবি, রমজান আলী গোড়ল ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সহ-সংগঠনিক সম্পাদক। এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিযোগ করা হয়, প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের ছাড় দিয়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। এ সময় কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিকের অপসারণ দাবি করে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। তবে এই কর্মসূচির বিষয়ে জেলা বা কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো পূর্বানুমতি ছিল না বলে জানা গেছে।
এদিকে, ওসির অপসারণ দাবির এই আন্দোলনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল সমর্থিত গ্রুপ। রোববার দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে।
পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তারকৃত আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের নিকটাত্মীয়। আত্মীয়তার খাতিরে তিনি প্রশাসনের আইনি কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং দলের নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
পারিবারিক সূত্রে চাচাতো ভাই রোকন উদ্দিন বাবুল ও জাহাঙ্গীর আলমের এই দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনরা একে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন এবং অনেকেই মন্তব্য করছেন যে, রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের বলির পাঁঠা হচ্ছেন স্থানীয় থানার ওসি।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমানের সঙ্গে তার আত্মীয়তার সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও, গ্রেপ্তারের দিন ওসিকে ফোন করার বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান।
সৃষ্ট ঘটনায় কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিকের সঙ্গে মুঠোফোন আলোচনা হলে তিনি দৈনিক আমার বাংলাদেশ সাংবাদিক কে জানান,‘আওয়ামীলীগ নেতা আজিজার রহমান নাশকতার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় তাকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি কার আত্মীয়, সেটি পুলিশের বিবেচ্য বিষয় নয়।
আমরা দেশে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সার্ক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি, তবুও কেউ যদি আমাকে নিয়ে মিথ্যাচার করে সেখানে,কি করার। আমি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আইনি দায়িত্ব পালন করছি।’