২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পথ প্রশস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বহুল আলোচিত একটি সমঝোতা স্মারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে বলে দুই দেশই নিশ্চিত করেছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া এই সমঝোতার লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তির ভিত্তি তৈরি করা।

‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যকার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ শীর্ষক এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরুদ্ধার, আঞ্চলিক সংঘাত প্রশমিত করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে শিথিল করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষ লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেবে এবং নতুন করে কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াবে না। পাশাপাশি একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অঙ্গীকারও করা হয়েছে।

সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবে। এ সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত কিছু সামুদ্রিক ও অর্থনৈতিক বাধা অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করবে। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এছাড়া ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনার কথাও সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত কাঠামো ভবিষ্যৎ আলোচনায় নির্ধারণ করা হবে।

পারমাণবিক ইস্যুতেও উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। ইরান পুনরায় জানিয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের পথে যাবে না। একই সঙ্গে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করবে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কিছু আর্থিক সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি যৌথ নির্বাহী কাঠামো গঠনের কথাও বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলে সেটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপরই এর সফলতা নির্ভর করবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top