মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি নেতা রেজাউল করিম হত্যা মামলার আসামীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মামলার আসামীদের স্বজনরা দাবি করেছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর ক্ষুব্ধ লোকজন তাদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও মূল্যবান মালামাল লুটপাট করেছে। এ ঘটনায় তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
বুধবার (১৭ জুন) উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের গড়েরপাড় এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখা যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহত রেজাউল করিম (৪০) মাগুড়া ইউনিয়নের দোলাপাড়া পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি মৃত আব্দুল ওহাবের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ জুন দুপুরে রেজাউল করিম তার ফুফাতো ভাই আমিন উদ্দিনের বাড়িতে দাওয়াতে যান। আমিন উদ্দিনের সঙ্গে তার অন্যান্য ভাইদের দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, দাওয়াত চলাকালে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে রেজাউল করিমসহ অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেজাউল করিমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামীরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অন্যদিকে, মামলার আসামীদের স্বজনদের দাবি, ঘটনার প্রকৃত চিত্র ভিন্ন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ওইদিন উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে রেজাউল করিম নিজ পক্ষের লোকজনের আঘাতে আহত হন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
আসামীপক্ষের স্বজনদের অভিযোগ, রেজাউল করিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার স্বজন ও সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে আসামীদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় বসতঘর, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল লুটপাট করা হয়।
আসামীপক্ষের স্বজন কাওসার আহমেদ বলেন, “আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। ঘটনার দিন তারা আমাদের বাড়িতে এসে গালিগালাজ করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে রেজাউল করিম আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যান। কিন্তু তার মৃত্যুর পর আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। মামলার আসামীদের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হোক, তবে আমাদের ক্ষয়ক্ষতিরও বিচার চাই।”
এলাকাবাসীর একটি অংশও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী ভাঙচুর-লুটপাট—উভয় ঘটনারই সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ধারণা, জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধই এই সংঘাতের মূল কারণ। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।