আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে বা প্রত্যাশিত আচরণ না করে, তাহলে ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে ইরানের ব্যর্থতা কিংবা অসহযোগিতামূলক আচরণ দেখা গেলে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ সময় তিনি দাবি করেন, ইরানের জন্য অবমুক্ত করা অর্থ মূলত খাদ্য ও কৃষিপণ্য কেনার উদ্দেশ্যেই ব্যবহার হওয়ার কথা ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা মেটাতে ওই অর্থ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতেই ফিরে আসবে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করেছে তেহরান। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের বরাতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দোলনাসের হেম্মাতি জানিয়েছেন, বর্তমান সমঝোতা স্মারকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য বা কৃষি উপকরণ কেনার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক আলোচনা শেষে দেশে ফিরে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হরমুজ প্রণালি নিয়ে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং এটি আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের তত্ত্বাবধানে এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পরিচালিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সমঝোতার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।