নিজস্ব প্রতিনিধি:
জাতীয় ডেস্ক: বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাবার কথিত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি লাভ এবং বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
গত ১৬ জুন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বেবিচক চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
এর আগে ১১ জুন প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মো. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি ২০০১ সালে বিতর্কিত একটি মুক্তিযোদ্ধা সনদের ভিত্তিতে বেবিচকে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান।
অনুসন্ধানে আরও উল্লেখ করা হয়, গোপালগঞ্জ জেলার গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার বাবার নাম পাওয়া যায়নি। এছাড়া কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত ও মামলা চলমান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা তারা পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিষয়টি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় রয়েছে।