নিজস্ব প্রতিনিধি:
দীর্ঘ ২৯ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইউনিটটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১ নম্বর ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিট সচল রয়েছে। ১ নম্বর ইউনিট থেকে বর্তমানে প্রায় ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। অন্যদিকে তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা ধীরে ধীরে ২০০ মেগাওয়াটেরও বেশি উৎপাদনে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তৃতীয় ইউনিট পুনরায় চালু হওয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তিনি জানান, আগে একটি ইউনিট সীমিত আকারে চালু থাকলেও তা থেকে মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেত।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে স্থাপিত তৃতীয় ইউনিটটি প্রায় আট বছর সচল থাকার পর ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর বন্ধ হয়ে যায়। নানা জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে।
এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম জানিয়েছেন, কোল ইয়ার্ড-সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানে কাজ চলছে। উৎপাদিত কয়লা বিকল্প স্থানে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা বাজারে বিক্রির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিকটবর্তী বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরেকটি ইউনিট চালু হওয়ায় কয়লার ব্যবহার বাড়বে, ফলে উৎপাদিত কয়লার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৃতীয় ইউনিট চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবদান আরও জোরালো হবে।