নিজস্ব প্রতিনিধি:
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে রাজধানীসহ সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা মঙ্গলবার (২৩ জুন) দিনভর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়ে নজরদারি জোরদার করে।
রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশমুখ, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বাড়ানো হয় গোয়েন্দা নজরদারি ও মোবাইল টহল।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে মিছিল, সমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করেছিল। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর আগাম প্রস্তুতি ও কঠোর অবস্থানের কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, রাজধানীতে কর্মসূচি পালনের সম্ভাব্য স্থানগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়। বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় প্রবেশের সম্ভাবনা বিবেচনায় বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, আবাসিক হোটেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
ধানমন্ডি-৩২, ধানমন্ডি-৩ এবং গুলিস্তানের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকাকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এসব এলাকায় পুলিশ, র্যাব, ডিবি ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন সংযোগ সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে চলাচলের ওপরও নজরদারি বাড়ানো হয়।
এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরে ২৭ জন, নারায়ণগঞ্জে ১৭ জন, গোপালগঞ্জে ৬ জন, রংপুরে ২ জন, বগুড়ার শিবগঞ্জে ২ জন, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় ১ জন, ময়মনসিংহের ফুলপুরে ২ জন এবং কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ১ জনকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট অন্তত ৫৭ জনকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ডিএমপি জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।