নিজস্ব প্রতিনিধি:
বহুল আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি বিচার প্রক্রিয়া। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে শুনানি সম্পন্ন না হওয়ায় ন্যায়বিচার নিয়ে উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছে নুসরাতের পরিবার।
২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হাত-পা বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রায়ের পর ২০২০ সালে মামলার পেপারবুক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয় এবং একই বছরের মার্চে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পরে বেঞ্চ পুনর্গঠনের কারণে শুনানি দীর্ঘদিন স্থগিত থাকে।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নতুন একটি হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হয়। সেখানে ১৬ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে সাতজনের ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষ হয়েছে। বাকি নয়জনের শুনানি সম্পন্ন হলে মামলার রায় ঘোষণার পথ উন্মুক্ত হবে।
সম্প্রতি নারী ও শিশু হত্যা ও ধর্ষণসংক্রান্ত আলোচিত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছেন। নুসরাত হত্যা মামলাও সেই বেঞ্চের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে কবে শুনানি শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির জানিয়েছেন, বর্তমানে পুরোনো ডেথ রেফারেন্স মামলাগুলোর শুনানি চলছে। ধারাবাহিকভাবে নুসরাত হত্যা মামলার শুনানিও অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টের রায়ের পর সংক্ষুব্ধ পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবেন। আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায় ও রিভিউ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আইনি পথ সম্পন্ন হবে।
এদিকে নুসরাতের বাড়িতে এখনো ২৪ ঘণ্টা পুলিশি নিরাপত্তা বহাল রয়েছে। পরিবারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের হুমকি পাওয়ায় তারা এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ্দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ মোট ১৬ জন।
কারা সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের একজন বর্তমানে ফেনী জেলা কারাগারে এবং অন্যরা কাশিমপুর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন।
আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, মামলাটি নতুন বেঞ্চের কার্যতালিকায় রয়েছে। দ্রুত শুনানি শেষ হয়ে চূড়ান্ত রায় হবে বলে তারা আশা করছেন।