মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
জুলাই আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়া নীলফামারীর সাংবাদিক ও জুলাইযোদ্ধা রায়হান আলী বর্তমানে থাইল্যান্ডের ভেজথানি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের চিকিৎসা শেষে এখনো তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। ইতোমধ্যে তার শরীরে ১৮টিরও বেশি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে তাকে আরও কয়েক দফা অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট নীলফামারী শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে জুলাই আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ কাভার করার সময় পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হন রায়হান আলী। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ নেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে থাইল্যান্ডের ভেজথানি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরিবার জানায়, থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর পর থেকে তার শরীরে একের পর এক জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। চিকিৎসা এখনো চলমান রয়েছে। দীর্ঘ সময় হাসপাতালের শয্যায় কাটাতে হচ্ছে তাকে। অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণা, অনিশ্চয়তা এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণে পরিবার চরম সংকটে পড়েছে।
নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের উত্তরা শশী পুরানা কাছারি পাড়া গ্রামের কৃষক আলী হোসেন ও রাহেনা বেগম দম্পতির বড় ছেলে রায়হান আলী। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তার ওপরই নির্ভরশীল ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে তিনি কর্মক্ষম না থাকায় বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী, চার বছর বয়সী ছেলে লাবিবসহ সাত সদস্যের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে তাদের সঞ্চিত অর্থ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এখন রায়হানের চিকিৎসা অব্যাহত রাখা এবং পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রায়হানের বাবা-মা বলেন, “দেশ ও মানুষের জন্য সত্য তুলে ধরতে গিয়ে আমাদের ছেলে আজ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। তার চিকিৎসার জন্য আমাদের সব সম্বল শেষ হয়ে গেছে। আমরা দেশবাসীর দোয়া ও মানবিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
রায়হান আলীর সহকর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৪আগস্ট আমরা একসাথে নীলফামারী চৌরঙ্গী মোড়ে নিউজ কাভারেজ করছিলাম। জুলাই আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ কাভার করার সময় পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হন রায়হান আলী। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়া এই সাংবাদিকের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ ও সাংবাদিক সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, সামাজিক ও মানবিক প্রতিষ্ঠান এবং বিত্তবানদের প্রতি তার চিকিৎসা ও পরিবারের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এদিকে ছোট্ট ছেলে লাবিব প্রতিদিন বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছে। পরিবারের একটাই প্রত্যাশা—রায়হান আলী সুস্থ হয়ে আবার দেশে ফিরবেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। সেই প্রত্যাশা পূরণে দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।