নিজস্ব প্রতিনিধি:
সংকটাপন্ন পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর জমা অর্থ সুদসহ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছু সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ‘হেয়ার কাট’ বা মূল আমানত কমানোর ব্যবস্থা রাখা হবে না।
সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, পাঁচটি ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের আনুমানিক ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। এসব সংকটাপন্ন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের প্রায় আট মাস পেরিয়ে গেলেও গ্রাহকদের আমানত ফেরত পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে সীমিত পরিমাণে টাকা উত্তোলনের সুযোগ থাকলেও গ্রাহকদের পুরো আমানত কবে ফেরত দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। এতে আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
রেহানা আক্তার রানু আরও বলেন, অনেক আমানতকারী চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানের বিয়ে কিংবা জরুরি পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে টাকা তুলতে পারছেন না। তিনি দ্রুত আমানত ফেরতের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল এবং তাদের লোকসান প্রতিদিন বাড়ছে। ফলে আমানত ও সুদ একসঙ্গে ফেরত দেওয়ার কাজটি জটিল হলেও নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা হবে।
তিনি বলেন, সরকার মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করবে। আমানতকারীরা তাদের মূল টাকা এবং সুদ—দুটিই ফেরত পাবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমানত ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। তবে বাস্তবায়নের জন্য আমানতকারীদের কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে।