নিজস্ব প্রতিনিধি:
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে পাহাড়ধস ও দেয়াল ধসের ঘটনা বেড়েছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে স্থানীয় পাঁচজন এবং ১৪ জন রোহিঙ্গাসহ অন্তত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। কক্সবাজার শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি জানান, কয়েক দিন ধরে কখনো মুষলধারে, আবার কখনো থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার শহরের কলাতলীর হাজীপাড়া এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসরত মানুষদের সরিয়ে নিতে দুপুরের পর থেকে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়।
তিনি বলেন, অনেক বাসিন্দা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ছেড়ে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছেন। তবে প্রশাসনের সদস্যরা তাদের বুঝিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানোর চেষ্টা করছেন। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা মানুষদের সরিয়ে নিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা মাঠে কাজ করছেন।
তিনি জানান, পাহাড়ধস ও সংশ্লিষ্ট ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাসহ অন্তত ১৯ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না থাকা এবং দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস।