নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা, পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভি।
বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই সফরের ধারাবাহিকতায় মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার রোধে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক সীমান্ত নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৪ বছর পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বৈঠকে পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ও তুলে ধরেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথিপত্রের অভাবে অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি নাগরিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশটির কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড বা সিএনআইসি পেতে সমস্যায় পড়ছেন। এর ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
নগর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের ‘সেফ সিটি’ উদ্যোগের অভিজ্ঞতার কথাও বৈঠকে আলোচনায় আসে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পাকিস্তানের ৪০টির বেশি শহরে বাস্তবায়িত প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব পাকিস্তানের ইসলামাবাদ, লাহোর, মুলতান ও করাচির সেফ সিটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের নগরগুলোকে নিরাপদ করতে পাকিস্তানের কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বাড়াতে পুলিশ কর্মকর্তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সহায়তা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সৌদি আরবে অবস্থানরত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানে অতীতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যৌথভাবে কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকটে দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে পাকিস্তানের ধারাবাহিক সমর্থন কামনা করেন, যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন।
বৈঠক শেষে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। সালাহউদ্দিন আহমদ আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সুবিধাজনক সময়ে সফরের আশ্বাস দেন।
বৈঠকে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।