আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দক্ষিণ লেবাননে যিশু খ্রিস্ট-এর একটি মূর্তি ভাঙচুরের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, এক ইসরাইলি সেনাকে বড় হাতুড়ি দিয়ে মূর্তিটিতে আঘাত করতে।
ঘটনাটি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সোমবার (২০ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ছবিটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, প্রাথমিক তদন্তে এটি দক্ষিণ লেবাননে দায়িত্ব পালনরত এক সেনাসদস্যের কাজ বলে প্রতীয়মান হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ-এর মধ্যে চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় সামরিক অভিযান চলছে।
ঘটনার পর ইসরাইলি পার্লামেন্টের আরব সদস্যরা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সংসদ সদস্য আয়মান ওদেহ ব্যঙ্গ করে বলেন, এখন হয়তো এমন ব্যাখ্যাও আসতে পারে যে সেনাটি মূর্তির কাছ থেকে হুমকি অনুভব করেছিলেন।
আরেক সংসদ সদস্য আহমদ তিবি অভিযোগ করেন, গাজা ও জেরুজালেমে ধর্মীয় স্থাপনা ও অনুসারীদের ওপর হামলার বিচার না হওয়ায় এমন ঘটনা বাড়ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধিকারকর্মীরাও পশ্চিমা বিশ্বের নীরবতার সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, ধর্মীয় প্রতীকের ওপর এমন হামলার পরও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া না থাকায় উগ্রতা ও বিদ্বেষ উৎসাহিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননের দেব্ল গ্রামের উপকণ্ঠে সংঘটিত এই ঘটনা শুধু সামরিক উত্তেজনার প্রতিফলন নয়, বরং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অসহিষ্ণুতারও বহিঃপ্রকাশ। এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে।