আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে ইসরাইল-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইরান-এর পরিবর্তে তুরস্ক অথবা পাকিস্তান উঠে আসতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন এক ইসরাইলি বিশ্লেষক।
ইসরাইলের দৈনিক মারিভ-এ প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি মধ্যপ্রাচ্যের ‘পরিবর্তনশীল বাস্তবতা’র কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে ইরান দুর্বল হয়ে পড়ায় ইসরাইলের প্রধান শত্রুর অবস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে।
নিবন্ধে বলা হয়, আলি খামেনি-এর নেতৃত্বে ইরান দীর্ঘ তিন দশক ধরে ইসরাইলের প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে দেশটির সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এ অবস্থায় সম্ভাব্য নতুন প্রতিপক্ষ হিসেবে তুরস্ক ও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেন গোলানি। তার মতে, দুটি দেশই জনসংখ্যায় বড়, সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ, শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে সম্পর্কও ভালো।
সাম্প্রতিক সময়ে গাজা যুদ্ধ ও সিরিয়া-কে কেন্দ্র করে ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান-এর সমালোচনা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ইসরাইল-তুরস্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত সিরিয়াকে ঘিরে কেন্দ্রীভূত হতে পারে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান ইরান যুদ্ধ চলাকালে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সক্রিয় ছিল এবং দেশটির কর্মকর্তারা ইসরাইলের সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক পোস্টে ইসরাইলকে ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ বলে মন্তব্য করেন, যদিও পরে তা মুছে ফেলা হয়।
গোলানি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হলে ইসরাইলকে নতুন কোনো দেশের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।