নিজস্ব প্রতিনিধি:
হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে প্রথমবারের মতো গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় বিদেশি অপারেটর যুক্ত হতে যাচ্ছে। এর ফলে স্বাধীনতার পর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৫৪ বছরের একক নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
তবে কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম আগের মতোই বিমানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। নতুন ব্যবস্থায় যাত্রীসেবা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্সটি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাগেজ চুরি, যাত্রী হয়রানি, সেবার ধীরগতি এবং আন্তর্জাতিক মানের ঘাটতির মতো দীর্ঘদিনের অভিযোগ দূর করে বিমানবন্দরের সেবার মান উন্নত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অংশীদারিত্ব বজায় থাকবে। একই সঙ্গে বিমানের কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।
তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে বিদেশি অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে। এতে দেশের বিমান পরিবহন খাত আরও শক্তিশালী হবে।
বাড়বে প্রতিযোগিতা, উন্নত হবে সেবা
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর কাজ করে থাকে। এতে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়, সেবার মান বৃদ্ধি পায় এবং বিমান সংস্থাগুলো বিকল্প সেবা গ্রহণের সুযোগ পায়।
বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বিদেশি অপারেটর যুক্ত হলে উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেশে আসবে। তবে এমন কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
বছরে আয় প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতায় যাত্রীসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, উড়োজাহাজ পরিচ্ছন্নতা, ক্যাটারিং, র্যাম্প সেবা এবং অন্যান্য সহায়ক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয় করেছে। আগের অর্থবছরে এই আয় ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
তবে দীর্ঘদিনের একক নিয়ন্ত্রণের কারণে সেবার মান নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম সরবরাহে ঘাটতি, মালামাল চুরি এবং যাত্রী ভোগান্তির মতো সমস্যাও আলোচনায় এসেছে।
আগ্রহী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান
তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিচালনায় বিশ্বের কয়েকটি খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সুইসপোর্ট, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা, যুক্তরাজ্যের মেনজিস এবং তুরস্কের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
নতুন ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কতটা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে পারে।