মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীতে দীর্ঘদিন ঝুপড়িঘরে মানবেতর জীবনযাপন করা অসহায় বৃদ্ধ লুৎফর রহমান চৌধুরী পুনর্বাসনের জন্য বৃদ্ধাশ্রমে নেওয়ার একদিনের মাথায় সেখান থেকে পালিয়ে নিজ এলাকায় ফিরে এসেছেন। বৃদ্ধাশ্রমের পরিবেশ ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ফিরে আসেন।
জানা যায়, নীলফামারী সদর উপজেলার কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের বাড়োঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমান চৌধুরীর করুণ জীবনসংগ্রামের খবর সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে তাকে একটি বৃদ্ধাশ্রমে স্থানান্তর করা হয়।
তবে সেখানে গিয়ে স্বস্তি পাননি বলে দাবি করেছেন লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, “ওখানকার থাকার পরিবেশ ভালো না। সারারাত চিৎকার-চেঁচামেচির কারণে ঘুমাতে পারিনি। আমাকে একটি কুঁড়েঘরে জায়গা দেওয়া হয়েছিল। থাকার জায়গাটি আমার ঝুপড়িঘরের চেয়েও খারাপ মনে হয়েছে। আজ সকাল ১০টার দিকে জানালা দিয়ে বের হয়ে চলে এসেছি। আমার জন্য যদি কোনো আবাসনের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে সেখানে থাকবো, না হলে আমার নিজের কুঁড়েঘরই অনেক ভালো।”
বৃদ্ধের ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় বাসিন্দা বাবু ওয়ার্সি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম বৃদ্ধাশ্রমে গেলে তিনি ভালো থাকবেন। কিন্তু ফিরে এসে তিনি জানিয়েছেন, সেখানে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি। তার জন্য স্থায়ী ও মানবিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সুমন হোসেন বলেন, “লুৎফর চাচা দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে জীবনযাপন করছেন। প্রশাসন তাকে সহযোগিতা করেছে, এটা প্রশংসনীয়। তবে তার মানসিক স্বস্তি ও ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। গ্রামের কাছাকাছি কোথাও থাকার ব্যবস্থা হলে তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন।”
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, বৃদ্ধাশ্রমের পরিবর্তে সরকারি আবাসন বা আশ্রয়ণ প্রকল্পে তার জন্য একটি স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা করা হলে তিনি নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ঝুপড়িঘর ও খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন লুৎফর রহমান চৌধুরী। তার দুর্দশার সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলেও বৃদ্ধাশ্রম থেকে ফিরে আসায় তার ভবিষ্যৎ পুনর্বাসন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।