১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনী হত্যা ঘটনায় শোকার্ত পরিবারের পাশে জেলা পূজা উদযাপন কমিটি, দ্রুত বিচারের দাবি

রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে চাঞ্চল্যকর ও নির্মম শিশু নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে লালমনিরহাট জেলা এবং উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ।

ঘটনার পর থেকেই পুরো জেলা জুড়ে নেমে এসেছে স্তব্ধতা ও শোকের ছায়া। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকা।

শনিবার (১৯ জুন) এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনাবলী সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করতে এবং শোকাগ্রস্ত হয়ে পড়া পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের লালমনিরহাট জেলা উপজেলা শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তাঁরা নিহতের পরিবারের সাথে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন এবং এই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

​এসময় লালমনিরহাট জেলা পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হীরালাল রায় রায়, সভাপতি, লালমনিরহাট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, সুবল চন্দ্র রায়, সহ-সভাপতি, লালমনিরহাট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। এস নীলকমল রায়, সভাপতি, আদিতমারী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ।তপন কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক, আদিতমারী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। রবীন্দ্রনাথ রায়, সভাপতি, ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই পরিদর্শনে অংশ নেন।

​পরিদর্শন শেষে লালমনিরহাট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায় এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেন,একটি নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। আমরা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি তথা ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।”

​আদিতমারী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মামলার তদন্ত যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয় এবং কোনো কুচক্রী মহল যেন অপরাধীদের আড়াল করার সুযোগ না পায়। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।বলে জানান তিনি।

​সরেজমিনে দেখা যায়, ফলিমারী গ্রামের আক্রান্ত পরিবারটির বাড়িতে এখনো চলছে বুকফাটা আর্তনাদ। স্বজনদের কান্নায় চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। নেতৃবৃন্দ যখন তাদের সাথে কথা বলছিলেন, তখন উপস্থিত প্রতিবেশীরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।

এরপরে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ব্যক্তিরা ওই নৃশংস ঘটনার স্থানে যান এবং ভুট্টা ক্ষেতের পাশে যেখানে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিলো কিছুক্ষণ থেকে তাঁরা সেখান থেকে ফিরে এসে প্রসাশনের সঙ্গে কথা বলেন।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূল আসামীকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হযেছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে, জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই ভাইরাল ও স্পর্শকাতর মামলার রাযের দিকে এখন তাকিয়ে আছে গোটা লালমনিরহাটবাসী।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top