নিজস্ব প্রতিনিধি:
জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের পাকুল্যা ভাঙ্গুনী ঘাট থেকে গজারীআটা ভাঙা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের ইট খুলে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। সড়কটি পাকা করার নামে সংসদ সদস্যকে দিয়ে উদ্বোধন করিয়ে ইট সরিয়ে নেওয়া হলেও পরে জানা যায়, এ ধরনের কোনো উন্নয়ন প্রকল্পই অনুমোদিত ছিল না। এতে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে নির্মিত ইটের সলিং সড়কটি পাকুল্যা, গজারীআটা, গুপীনাথপুর, হাটুভাঙ্গা ও ডুয়াইলপাড়াসহ আশপাশের গ্রামের মানুষের চলাচলের অন্যতম ভরসা ছিল। প্রায় দুই মাস আগে ঠিকাদার পরিচয়ে একটি চক্র সড়কটি পাকা করার কথা জানিয়ে পুরো রাস্তার ইট খুলে নেয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকায় প্রথমদিকে কেউ বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করেননি।
তবে পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানায়, ওই সড়ক উন্নয়নের কোনো প্রকল্প বা দরপত্রই অনুমোদন হয়নি। একই কৌশলে সদর উপজেলার আরও দুটি গ্রামীণ সড়ক থেকেও ইট সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইট তুলে নেওয়ার পর সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত ও কাদার সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
পাকুল্যা গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকরা সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারে নিতে পারছেন না। ফলে তারা ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহম্মেদ জানান, সদর উপজেলার তিনটি সড়ক থেকে ইট তুলে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, প্রতারক চক্র উন্নয়ন কাজের কথা বলে তাকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিয়ে গিয়েছিল। পরে প্রকৃত ঘটনা জানতে পেরে তার উদ্যোগে মূল অভিযুক্ত আবদুল মান্নানসহ ১১ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।