নিজস্ব প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন জানান, পদ্মা সেতুর একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে এক ব্যক্তি কিছু সময় সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে থাকার পর নদীতে ঝাঁপ দেন। তার সঙ্গে একটি ব্যাগ ও জামাকাপড় ছিল। তবে উদ্ধার হওয়া লাশটি ফোরকানের কিনা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ডিএনএ পরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানায়, সেতুর ওপর থেকে একটি ব্যাগ ও কিছু জামাকাপড় উদ্ধার করেছে সিআইডি, যা পরে ফোরকানের বলে শনাক্ত করা হয়। এছাড়া এক ব্যক্তির কাছ থেকে ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, তিনি পদ্মা সেতুর ওপর ফোনটি পড়ে থাকতে দেখেছিলেন।
পাঁচজনকে হত্যার ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। তাকে ধরতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছিল। পরে পদ্মা নদী থেকে একটি ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হলে সেটিকে ফোরকানের বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
গত ৮ মে রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে ভাড়া বাসায় ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম, মারিয়া ও ফারিয়া এবং শ্যালক রসুল মিয়াকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরদিন সকালে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে হত্যার কথা স্বীকার করে পালিয়ে যাওয়ার কথা জানান বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে পাঁচজনের মরদেহ দেখতে পান।
ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোমল পানীয়ের বোতল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কিছু প্রিন্ট করা কাগজও পাওয়া যায়, যেখানে স্ত্রীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ উল্লেখ ছিল।
পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহ ও দাম্পত্য বিরোধ থেকেই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এরই মধ্যে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।