লালমনিরহাটে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ: হাতেনাতে গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক, পাঠানো হলো কারাগারে

​রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে আলিম উদ্দিন (২৬) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে আদিতমারী পুলিশ। এলাকাবাসীর সহায়তায় তাকে অবরুদ্ধ করার পর পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

​গত সোমবার (২২ জুন) দুপুরে উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের নাড়িয়ার বাজার এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

​স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে নাড়িয়ার বাজার এলাকার ওই গৃহবধূ নিজের বাড়িতে একাই ছিলেন। এই সুযোগে নামুড়ি চন্দ্রপুর সালমান ফারসি নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষক আলিম উদ্দিন আকস্মিকভাবে তার ঘরে প্রবেশ করেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি ওই নারীকে জিম্মি করেন এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন চালান।

​নির্যাতনের শিকার নারীর চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা বাড়িটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন এবং আপত্তিকর অবস্থায় অভিযুক্ত শিক্ষককে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর উত্তেজিত জনতা তাকে আটকে রেখে তাৎক্ষণিকভাবে আদিতমারী থানা পুলিশকে খবর দেয়। সংবাদ পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত আলিম উদ্দিনকে নিজেদের জিম্মায় নেয়।

​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পাশবিক নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই অবস্থায় তার ওপর এমন অমানবিক নির্যাতনে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই নারী নিজেই বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে আদিতমারী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।

​আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুস সাকিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দৈনিক আমার বাংলাদেশ সাংবাদিক কে জানান,ভুক্তভোগী গৃহবধূর দেওয়া সুনির্দিষ্ট এজাহারের ভিত্তিতে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি দেখছে। মঙ্গলবার দুপুরের পর গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হলে, বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”

​সৃষ্ট ঘটনায় আদিতমারী থানায় একটি মামলা হয়েছে মামলা নম্বর আদিত-১৭ -২৬ ইং জানাগেছে অভিযুক্ত আলিম উদ্দিন উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় মাদ্রাসাসহ পুরো এলাকায় মাদ্রাসার শিক্ষকের এমন নৈতিক স্খলন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top