২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার কয়েকদিন আগে চ্যাটজিপিটির কাছে একজন মানুষকে আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দিলে কী হতে পারে—এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিল। এ তথ্য জানিয়েছে এনবিসি নিউজ।

অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহ (২৬)-এর বিরুদ্ধে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহত দুজনের বয়সই ২৭ বছর। ইতোমধ্যে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে বৃষ্টির মরদেহ এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তিন দিন আগে ১৩ এপ্রিল রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করে, কোনো মানুষকে কালো আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দিলে কী হবে। সতর্কবার্তা পাওয়ার পর সে আবার জানতে চায়, এমন ঘটনা কীভাবে ধরা পড়তে পারে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ১৭ এপ্রিল তাকে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে কার্ডবোর্ডের বাক্স ডাম্পস্টারে ফেলতে দেখেন এক রুমমেট। পরে ওই ডাম্পস্টার থেকে জামিল লিমনের শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র ও ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কিছু আলামতে ডিএনএ পরীক্ষায় নিহতদের উপস্থিতির মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।

শেরিফ কার্যালয়ের তথ্যমতে, জামিল লিমনের মরদেহ একটি ভারী আবর্জনার ব্যাগে পাওয়া যায়। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অন্যদিকে নাহিদা বৃষ্টি এখনো জীবিত—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তার মরদেহও গোপন করা হয়েছে। সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া কিছু মানবদেহাবশেষের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

প্রসিকিউটরদের দাবি, ১৬ এপ্রিল অভিযুক্ত ব্যক্তি বলেছিলেন তিনি লিমন ও বৃষ্টিকে অন্য এলাকায় পৌঁছে দিয়েছেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, ওই দিন তিনি আবর্জনার ব্যাগ, জীবাণুনাশক সামগ্রী ও এয়ার ফ্রেশনার কিনেছিলেন। তার বাসা থেকেও রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করলেও পরে মোবাইল লোকেশন তথ্য দেখানোর পর নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেন।

পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা, অবৈধভাবে আটকে রাখা, মৃত্যুর খবর গোপন করা, মরদেহ গোপন রাখা এবং আলামত নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই কারাগারে রাখা হয়েছে।

নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবার যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের মরদেহ ইসলামি বিধান অনুযায়ী দাফনের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি তাদের স্মরণে একটি স্মারক স্থাপনেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top