আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দীর্ঘ চার দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও সমাজে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে পরিচিত ‘খ্রিস্টান জায়নবাদ’ এখন নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাহ্যিকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকলেও তরুণ রক্ষণশীল ও ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ায় এই আন্দোলনের ভিত নড়বড়ে হয়ে উঠছে।
ঐতিহাসিকভাবে খ্রিস্টান জায়নবাদীরা বিশ্বাস করে, যিশু খ্রিস্টের পুনরাগমনের পূর্বশর্ত হিসেবে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের পুনর্বাসন এবং ইসরাইল রাষ্ট্রের শক্তিশালী অবস্থান জরুরি। এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বিশাল অনুসারী গোষ্ঠী গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান রাজনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবেও কাজ করেছে তারা।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে গাজা পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এনেছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, এক দশক আগে যেখানে অধিকাংশ ইভানজেলিক্যাল তরুণ ধর্মীয় ভবিষ্যদ্বাণিভিত্তিক তত্ত্বে বিশ্বাস করতেন, বর্তমানে সেই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একইসঙ্গে ইসরাইলের প্রতি সরাসরি সমর্থনও কমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রজন্ম এখন ইসরাইলকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করছে। তাদের অনেকেই ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
যদিও জনসমর্থনে পরিবর্তন এসেছে, তবু ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী মহলে খ্রিস্টান জায়নবাদীদের আর্থিক ও সাংগঠনিক প্রভাব এখনো শক্তিশালী। বিভিন্ন প্রভাবশালী সংগঠন ইসরাইলপন্থী নীতির পক্ষে নিয়মিত লবিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং এ খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।
এদিকে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণদের এই পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে মার্কিন রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যনীতি উভয় ক্ষেত্রেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, মানবাধিকার ও নৈতিক প্রশ্ন এখন ধর্মীয় ব্যাখ্যার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, যা আগামী দিনে খ্রিস্টান জায়নবাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।