আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে ১২০ ডলার অতিক্রম করেছে এবং তা শিগগিরই ১৪০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বক্তব্যকে ব্যঙ্গ করে বলেন, ট্রাম্প যে দাবি করেছিলেন—ইরানের তেলকূপ তিন দিনের মধ্যে বিস্ফোরিত হবে—তা বাস্তবে ঘটেনি।
তিনি লিখেছেন, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও একটি তেলকূপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। প্রয়োজনে সময়সীমা আরও বাড়িয়ে বিষয়টি সরাসরি দেখানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
গালিবাফ আরও বলেন, মার্কিন প্রশাসনের ভুল নীতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের মতো কর্মকর্তাদের পরামর্শকে তিনি অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধমূলক নীতি তেলের বাজারে চাপ তৈরি করে মূল্য বৃদ্ধি করছে। ইতোমধ্যে তেলের দাম ১২০ ডলারের ওপরে উঠেছে এবং তা আরও বাড়তে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক অবরোধ আরোপ করেছে। এর লক্ষ্য ইরানকে তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য করা এবং অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।
তবে এই পরিস্থিতির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ছে। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ১১৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়গুলোর একটি।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।